Skip to main content

মানবাধিকারের গোড়ার কথাঃ সেতারা গফফার


মানবাধিকারের গোড়ার কথাঃ  সেতারা গফফার

আধুনিক সভ্যতায় মানবাধিকার অধিকতর গুরুত্ব পেলেও এর ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীনগ্রীক দার্শনিকদের চিন্তাধারায় মানবাধিকার উম্মেচিত হয়েছিল যা অস্বীকার করার সুযোগ নেইগ্রীক দার্শনিক এ্যারিস্টোটেল, প্লেটো, প্রমুখের দর্শন তত্ত্বে মানবকল্যান এবং এই জন্য উপস্থাপিত নীতিমালা থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়রোমান আইন ছিল মানব সভ্যতার অন্যতম গর্বরোমান আইন শাস্ত্রবিদ সিসেরো, পলিবিয়াসদের প্রাকৃতিক আইনের ব্যাখ্যায় মানুষের অধিকারের চিত্র ফুটে উঠেআধুনিক আইন বিজ্ঞান যে রোমান আইনের আধুনিকতম সংরক্ষন এই কথা সব আধুনিক আইনবিদ স্বীকার করতে বাধ্যরোমান যুগে প্লেবিয়ানদের অত্যচার ও নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য জুরিস্টরা নতুন আইন প্রবর্তন করেনবিশেষ করে দাস শ্রেনী সহ সমাজের নিম্ন শ্রেনীর মানুষের

অত্যান্ত শোচনীয় অবস্থার মুক্তির জন্য সম্রাট জাষ্টিনিয়ানের মানবতাবাদী আইন প্রনয়ন মানবাধিকারের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের বদৌলতে প্রকৃত মানবাধিকারের গোড়াপত্তন হলেও কালের পরিক্রমায় দশম শতাব্দীতে এসে ইসলামের শ্বাশত মানবাধিকার সনদগুলো স্মৃতির পাতায় ঝাপসা হয়ে যায়মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী ভিন্ন ব্যাখ্যায় ভিন্ন আংগিকে উপস্থাপিত হয়ে ইতিহাসের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়এই প্রবন্ধের সমাপনীতে ইসলামের স্বর্ণযুগে মানবাধিকারের সার্বজনীন যে মৌলিক ঘোষণা তার একটি বিবরণ তুলে ধরার আশায় এই অনুচ্ছেদে সেটি এড়িয়ে গেলাম।দ্বাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে রেনেসাঁর যুগ থেকে মানবাধিকারের ধারণাটি শক্তিশালী হয়ে উঠেনতুন রেনেসাঁর চিন্তা প্রবাহে ভীষণভাবে প্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিক দার্শনিকরা একদিকে রাজশক্তির প্রচন্ডতা এবং অন্যদিকে খ্রীষ্টীয় চার্চের পোপদের সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রন থেকে মানুষের মুক্তির উপায় খুঁজতে লাগলেনএই ধারাবাহিকতায় বৃটেনে ১২১৫ সালের Magna Carta কে মৌলিক অধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিহাস সৃষ্টিকারী সনদ বলে মনে করা হয় কিন্তু সাধারণ জনগনের সাথে এর কোন সম্পর্কই ছিল না কারণ এটা Barons দের স্বার্থ সংরক্ষনে রাজার সাথে কৃত একটি চুক্তি ছিলএরপর মৌলিক মানবাধিকার আন্দোলনের সুচনা ঘটে বৃটেনের রাজা কনরাড যখন একটি ফরমান বলে parliament এর ক্ষমতা নির্ধারন করেন১৩৫৫ সালে একে বৃটিশ পার্লামেন্টে Megna carta স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং বিনা বিচারে কাউকে সম্পত্তি হতে উচ্ছেদ, শাস্তি প্রদান বা মৃত্যুদন্ড দেয়া নিষিদ্ধ করা হয়চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতাব্দীতে ম্যাকিয়াভেলির স্বৈরতন্ত্রের জয়জয়কারে মানবাধিকার আন্দোলন কিছুটা ঝিমিয়ে যায়সপ্তদশ শতাব্দীতে এই আন্দোলন পুণরায় চাঙ্গা হয় এবং যার ফলশ্রূতিতে ১৬২৮ সালের Pitition of Rights ১৬৭৯ সালের arbitrary arrest বা detention জনগণকে নিরাপত্তা দেয়১৬৮৯ সালে Bill of Rights মানবাধিকারের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে বিবেচিত হয়লর্ড এবটোনের ভাষায় এটি ইংরেজ জাতির মহত্তম অবদানএ প্রসঙ্গেElder William Pitt বলেন Megna carta the pitition of Rights and the Bill of Rights are the Bible of the British constitution.
উপরোক্ত আইন দ্বারা মৌলিক অধিকারকে সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়এবং Ges 1. trail by jury 2. freedom from (i) cruel punishment, 2. excessive fine, 3. excessive bail ইত্যাদি নিশ্চিত করা হয়১৭৭৬ সালে আমেরিকায় vurginia তে সেখানকার বিপ্লবীরা Bill of Rights পাশ করেএতে বলা হয় all man are by nature fully free and independent and have certain rights namely.
• The enjoyment of life and liberty.
• Acquiring of possessing property.
• Obtaining hapiness

একই বৎসরে স্বাধীনতার ঘোষণাপপত্রে আরো যুক্ত হয়-
• Freedom of speech and press.
• Speedy and fair trail
• Free exerciese of religion

১৭৮৯ সালে ফ্রান্সেthe declaration of rights of man গৃহীত হয় সেখানে বলা হয় men are born and remain free and equal in rights. উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের দেশে দেশে এ জাতীয় ঘোষণাকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রবণতা আরো স্স্পুষ্ঠ রূপ ধারণ করে ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে H.G Wales তার New World order গ্রন্থে মানবাধিকারের একটি সনদ ঘোষনার পরামর্শ দেনতারই ধারাবাহিকতায় জাতি সংঘ ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করেন
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ঘোষিত মানবাধিকার সনদের স্বরুপ:
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা সর্বশেষ বিশ্ব মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপএই ঘোষনার ৩০টি অনুচ্ছেদের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে মানবের মর্যাদা সম্পর্কে এই ধারা মতে সকল মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন ও সমানপ্রত্যেক মানুষের মর্যাদা এবং অধিকার সমানসকলেরই রয়েছে বিবেক এবং বিবেচনা শক্তিকাজ কর্মে তারা পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করবেন৩-২১ অনুচ্ছেদ ১৯টিতে ঘোষণা করা হয়েছে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার২২-২৭ অনুচ্ছেদ ৬টিতে ঘোষণা করা হয়েছে মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার, এবং ২৮-২৯ এ ২টিতে ঘোষণা করা হয়েছে অধিকারের অপরদিক যে দায়িত্ব তার বিবরণ
মানবাধিকার সনদের ৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংবিধান বা আইন কর্তৃক প্রদত্ত মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে এখতিয়ার সম্পন্ন জাতীয় বিচারালয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষের কার্যকর বিচারালয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষের কার্যকর প্রতিকার পাবার অধিকার থাকবেমোদ্দা কথা, ব্যক্তির যে স্বতন্ত্র সত্ত্বা রয়েছে,রাষ্ট্র বা অন্য কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের এই স্বতন্ত্র সত্ত্বা ক্ষুন্ন করার ক্ষমতা নেইসামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যক্তি যে অনন্য ও অতুলনীয় এবং চুক্তি ও বিবেক বিচারে যে অপূর্ব তা সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে

দেশে দেশে বিপর্যস্ত মানবাধিকার :

মানবধিকার নিয়ে দেশে দেশে আজ জোরালো শ্লোগান উঠেছে মানবাধিকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষণার অনুসরণ ও আনুকুল্যে গড়ে উঠেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে অসংখ্য মানবাধিকার সংগঠনযে সংগঠনগুলোর পৃষ্ঠপোষক অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র ও ব্যক্তিবর্গমানবাধিকার সংগঠন গুলো মানবাধিকার রক্ষার অভিভাবক সেজে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে মাঝে মাঝে বক্তব্য বিবৃতি দেনতাদের বক্তব্য বিবৃতি কার্যত জনমত গঠন কিংবা জনমতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা পালন করতে পেরেছে কিনা সেটি নতুন আরেক গবেষনার বিষয়বাস্তবিক পক্ষে ঘোষণাপত্র কি মানবজাতিকে নির্যাতন,উৎপীড়ন, দমন,স্বৈরাচার,একনায়কত্ব ও ফ্যাসিবাদের হিং¯্র ছোবল থেকে মুক্তি দান করে স্বাধীন পরিবেশে নি:শ্বাস নেওয়ার এবং নিজেদের অধিকার ভোগের সুযোগ করে দিতে পেরেছে? এই ঘোষণা পত্রের বাস্তব অবস্থা এবং জাতিসংঘের অসহায় অবস্থার কথা আজ দেশে দেশে প্রমানিত সত্য হিসাবে প্রতীয়মান১৯৪৫ সালে যে উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তা ছিল বিশ্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শোষন ,লাঞ্ছনা,গুঞ্ছনা,যুদ্ধ,নির্যাতন বন্ধ করে বিশ্ব ব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা কিন্তু সেটি আজ দেশে দেশে ব্যর্থতায় পর্যুবসিত হয়েছেমানবাধিকার রক্ষায় অভিভাবত্বকারী দেশগুলো মানবাধিকার লংঘনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী দায়ীবিশেষ করে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো যারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোট ও ভেটো প্রদানের মাধ্যমে ধরাকে সরাজ্ঞান করার শক্তি রাখে তাদের খামখেয়ালী পূর্ণ মনোভাব ও ছোট ছোট রাষ্ট্র গুলোর উপর প্রভুত্ব করার বাসনা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাহত করেছেআর তাদের ইচ্ছা পূর্ণ করতে গিয়ে মানবাধিকার হচ্ছে লুণ্ঠিত মানবাধিকার সংগঠন গুলো শক্তিহীন এবং বড় বড় রাষ্ট্র গুলোর তল্পিবাহক হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠন গুলো হয়ে পড়েছে অকার্যকরতাদের না আছে মানবিক বিপর্যয় ঠেকানোর ক্ষমতা না আছে আইনগত বাধ্যবাধকতা পালন করানোর যোগ্যতাজাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ ও তার ব্যতিক্রম নয়আজকের বিশ্বে মানবিক বিপর্যয়ের সবচেয়ে বেশী শিকার বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো শক্তিধর দেশগুলোর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ হস্তক্ষেপে ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলো অসহায়একটু চিন্তা করলে দেখা যাবে মানবিক বিপর্যয় দেশে দেশে বহুমাত্রিক এবং বহু উপায়ে সংঘটিত হচ্ছে কোথাও কোথাও প্রত্যক্ষ হামলা,নির্যাতন,অবরোধ,যুদ্ধের মাধ্যমে মানবধিকার লংঘন ও লুণ্ঠন করা হচ্ছে আবার কোথাও কোথাও আভ্যন্তরীন হস্তক্ষেপ এই অধিকারকে আরো বেশী প্রশ্নবিদ্ধ করেছেএক গবেষনায় দেখা গেছে বিশ্বের কয়েকটি শক্তিধর দেশের কথা বাদ দিলে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানবধিকার হরন করা হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে সাক্ষ্য প্রমানহীন অভিযোগে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ আমেরিকার পক্ষ হতে আফগানিস্তানের উপর সর্বাতœক যুদ্ধ ঘোষণা ও হামলায় সেটিই প্রমানিত হয়েছে শুধুমাত্র একজন ওসামা বিন লাদেনকে ধরার নামে একটি রাষ্ট্রকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলা ও লাখ লাখ বেসামরিক লোকসহ নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা মানবাধিকার লংঘনের প্রকৃষ্ট উদাহরণএই যুদ্ধে পুরো আফগানিস্তান মৃত্যুপুরীতে পরিনত হয়২৬ নভেম্বর ২০০১ সালে শুধু কুন্দুজের কিল্লা জঙ্গী ঘাটিতে পুড়িয়ে মারা হয় ৩৬০০ বন্দীকে যেটি মানবাধিকার লংঘনের নজিরবিহীন ঘটনা২০০১ সালে দশ বৎসর পূর্বে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল আজও সেই যুদ্ধ চলমান কবে নাগাদ সেই যুদ্ধ শেষ হবে বলা মুশকিল এর মাধ্যমে কি প্রমানিত হয়না ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলোর ব্যাপারে এখনো জোর যার মুল্লুক তার নীতি অব্যাহত আছেআজ আফগানিস্তানের অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছে অথচ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মানবতাহীন এই যুদ্ধকে বৎসরের পর বৎসর নীরব সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে২০০৪ সাল হতে আমেরিকার উদ্যোগে ইরাক যুদ্ধ আজ মানবাধিকার লংঘনের সর্বশেষ সীমাটিও অতিক্রম করে চলেছেপারমানবিক অস্ত্র রাখার মিথ্যা অভিযোগে ইরাককে আজ ধ্বংস করে দেয়া হলোযুদ্ধের মাধ্যমে ইরাকের প্রতিরক্ষা ও প্রশাসন নিজেদের করায়ত্ব করতে পারলেও এখনো পর্যন্ত ইরাক থেকে কোন পারমানবিক [ রাসায়নিক] অস্ত্র আমেরিকা উদ্ধার করতে পারেনিআমেরিকা নিয়মিত পারমানবিক অস্ত্র তৈরী ও সংরক্ষন করে চলেছে আর ইরাকে তা না থাকা সত্বেও মিথ্যা অজুহাতে ইরাক কে ধ্বংসের রাজ্যে পরিনত করা হয়েছেইরাক যুদ্ধে হাজার হাজার বেসামরিক লোকসহ নারী-পুরুষ ও শিশু মারা গেছে এবং এখনো প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে এই ক্ষেত্রে শুধু মানবাধিকার নয় আমেরিকা আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতির সীমা লংঘন করেছে অথচ বলার কেউ নেইইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনসহ অসংখ্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গকে বিচারের নামে মিথ্যা প্রহসনে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেআতœপক্ষ সমর্থন কিংবা উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ না দিয়ে মানবাধিকার লংঘন করা হয়েছে মানবাধিকার সংস্থা নামমাত্র মাঝে মাঝে বক্তব্য-বিবৃতি দিলেও কার্যকর কোন উদ্যোগ কি নিতে পেরেছে? এই ভাবে বৎসরের পর বৎসর মানবাধিকার লংঘন হবে আর বিশ্ব বিবেক নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করবে কারন ক্ষমতাধর দেশগুলোর কাছে মানবাধিকারের সংজ্ঞা একটু ব্যতিক্রম দীর্ঘ আট দশকেরও বেশী সময় ধরে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল মুসলিম রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের উপর সর্বাতœ জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে সেখানে আজ মানবাধিকার চরমভাবে লংঘিত অথচ ক্ষদ্ররাষ্ট্র ইসরাইল আমেরিকার আসকারা পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেপ্রতিদিন খবরের কাগজে ফিলিস্তিনী নারী-পুরুষের রক্তাক্ত লাশ ,শিশুদের নিথর দেহ বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিতে সক্ষম হলেও এখনো অনিশ্চিত কবে তারা পাবে মানবাধিকারের সামান্যটুকু অধিকার বিশ্বব্যাপী নিরপরাধ মুসলমানদের রক্তে আজ মানবাধিকার লংঘিত,মানবতা নিষ্পেষিত অথচ যারা তা ঘটাচ্ছে তারা আধুনিক সভ্যতার রক্ষক হিসাবে পরিচিতকাশ্মীরি মুসলমানরা অর্ধশতাব্দী ধরে স্বাধীনতার সংগ্রাম করলেও তারা তাদের সেই স্বাধীনতাতো পায়নি উল্টা আজ তারা প্রতিনিয়ত লাঞ্চিত ও বঞ্চিত নিরপরাধ কাশ্মীরি মুসলমান নারীও শিশুদের রক্তেও যেন মানবাধিকার জাগ্রত হয়নানির্যাতিত নারী ও শিশুদের কানফাটা আর্তনাদ যেন তাদের বধির কর্ণকুহরে পৌঁছাতে পারেনাচীনের উইঘুর মুসলমানদের নৃশংস হত্যা করা হয়, দেশ থেকে বের করে দেয়া হয় প্রতিনিয়ত অথচ তাদের যেন দেখার কেউ নেই আরাকানের মুসলমানরা আজ রিপুজিসেখানে স্বৈরশাসক তাদেরকে নিজ মাতৃভুমি থেকে বিতাড়ন করেছেতারা থাকা খাওয়ার অধিকার বঞ্চিতপ্রতিবাদ করলে চলে হত্যা ও গ্রেফতারের নিষ্ঠুর নির্যাতনভারতের হায়দ্রাবাদ আর গুজরাটের মুসলমানরা সংখ্যালঘু হিসাবে নির্যাতিত হয় বার বারপুড়ে মারা হয় তাদের, লুঠ করা হয় স্বর্বস্ব, দখল করা হয় ধর্মীয় প্রার্থনাগার মসজিদগুয়েন্তানামো কারাগারে যুদ্ধবন্ধীদের সাথে মার্কিন সৈন্যদের অত্যাচার ও নির্যাতন শুধু মানবাধিকার নয় আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতিকেও লংঘন করেছেআজ এই ভাবে বিশ্বব্যাপী শক্তিধর দেশগুলোর অত্যাচারে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র দেশগুলো এবং দেশের অভ্যন্তরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগুলো তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেবিশেষ করে মুসলিম দেশ গুলোর প্রতি এই অমানবিক কার্যক্রম অব্যাহত গতিতে বেড়ে চলেছে

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র গ্রহণ করেন এবং মানবাধিকার সংরক্ষনে অঙ্গীকার বদ্ধ হনবিশ্লেষকদের মতে মানবাধিকারের এই দলিলটি বিশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলকেননা এই দলিলের মাধ্যমে বিশ্বের সকল মানুষের অধিকারের কিছু দাবী আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোয় স্বীকৃতি লাভ করে বিধিবদ্ধ হয়েছে মূলত: ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে পৃথিবীর ইতিহাসের মানবাধিকার লংঘনের যে মহা ধ্বংসযজ্ঞ আমেরিকা চালায় তার প্রতিক্রিয়ার সূত্র ধরে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা ও পরে ১৯৪৮ সালে ১০ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের তত্ত্বাবধানে সাবর্জনীন মানবাধিকার সংরক্ষনের যাত্রা শুরু হয়তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় আজ থেকে ষাট বৎসর পূর্বে বিশ্বে সার্বজনীন মানবাধিকারের স্বীকৃতি এলেও তখন যে নাজুক অবস্থা বিশ্বে বিদ্যমান ছিল আজও তার তেমন পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় নাতখন ও যেভাবে মানবাধিকার দেশে দেশে লংঘিত হয়েছে এখনো তেমনিভাবে দ্বিধাহীনচিত্তে লংঘিত হচ্ছে
বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো অপেক্ষাকৃত দূর্বল দেশগুলোর মানবাধিকার সংরক্ষনে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উপদেশ ও নীতিমালা পেশ করছে বটে কিন্তু নিজ দেশ এবং ভিন্ন দেশে তাদের দ্বারা প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লংঘনের যে ভয়াবহ বিভীষিকা ছড়িয়ে পড়ছে তা অনেক বেশী ভয়ংঙ্কর ও মারাত্মকমূলত: মানবাধিকার ঘোষনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব ১৯৪৮ সালে যেমন ছিল ২০১০ সালেও তেমন রয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তার চেয়ে অবস্থার অবনতি হয়েছেসুতরাং এমতাবস্থায় বিশ্বব্যাপী ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস পালন মানবাধিকারকে উপহাস ছাড়া আর কি হতে পারে?

Comments

Popular posts from this blog

২০০২ সালের একটি দুলর্ভ ছবি

২০০২ সালের একটি দুলর্ভ ছবি । মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব নেয়ার পর তৎকালিন চট্টগ্রাম প্রেস সভাপতি আবু সুফিয়ানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম বিভাগের ইফতার মাহফিল

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম বিভাগের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন এজিএস ফ্যামিলের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত রমজান শীর্ষক আলোচনা সভা বক্তারা বলেন , সৃষ্টির ওপর যেমন সষ্টার সম্মান ও মর্যাদা অপরিসীম , তেমনি পবিত্র রমজানে এর সওয়াব আরো বেশি , এ মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে কোরআন তেলাওয়াত এবং যাপিত জীবনে তার চর্চা করা । তাই প্রত্যেক মুমিন - মুসলিমকেই এ ব্যাপারে অধিক মনোযোগী হওয়া উচিত , আর সে অনুযায়ী জীবনকে পরিচালনা করতে হবে । কোরআনের চর্চা করার জন্য পবিত্র এ মাস হচ্ছে উপযুক্ত সময় । কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত অসীম । মহান রবের কালাম তেলাওয়াতের ফলে হৃদয়ের অপবিত্রতা দূর হয় । হৃদয়ে প্রভুর ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় । মুক্তি মেলে ইহকালে - পরকালে । চট্টগ্রাম সিনিয়ার্স ক্লাব হলে আয়োজিত মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম বিভাগের অনুষ্ঠানে লায়ন সিতারা গফফার এর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো : নূর উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি গর্ভনর ...

বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা আবদুল গফফারের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী ৩ এপ্রিল